মূল সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না, নীতিমালা মেনে হবে পুনর্বাসন: ডিএসসিসি প্রশাসক
এম আকবর হোসেন :
রাজধানীর যানবাহন ও পথচারী চলাচল নির্বিঘ্ন রেখে হকারদের সুশৃঙ্খলভাবে পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া হবে। তবে কোনোভাবেই মূল সড়কে হকার বসতে দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের (ডিএসসিসি) প্রশাসক বীর মুক্তিযোদ্ধা মোঃ আবদুস সালাম।
সোমবার নগর ভবন অডিটোরিয়ামে হকার ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডিএসসিসি প্রশাসক বলেন, ঢাকা শহর ও নাগরিকদের নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করতে সুশৃঙ্খল হকার ব্যবস্থাপনার কোনো বিকল্প নেই। হকারদের জীবিকা বন্ধ করার কোনো উদ্দেশ্য নেই, তবে সারাদেশের ভাসমান মানুষকে হকার হিসেবে ঢাকায় পুনর্বাসন করাও সম্ভব নয়।
তিনি বলেন, সরকার প্রণীত ‘ঢাকা শহরের হকার ব্যবস্থাপনা নীতিমালা-২০২৬’ কঠোরভাবে অনুসরণ করেই হকারদের নিবন্ধন, নবায়ন এবং ব্যবসার স্থান নির্ধারণ করা হবে। নির্ধারিত ফি পরিশোধ করে নিবন্ধিত হকারদের নির্দিষ্ট সড়ক ও নির্ধারিত সময়ে ব্যবসা পরিচালনা করতে হবে।
আবদুস সালাম বলেন, “মূল সড়কে কোনোভাবেই হকার বসতে দেওয়া হবে না। যেসব সড়কে প্রশস্ত ফুটপাত রয়েছে, সেখানে নাগরিকদের চলাচলের জন্য প্রয়োজনীয় জায়গা উন্মুক্ত রেখে নির্দিষ্ট সংখ্যক নিবন্ধিত হকারকে ব্যবসার সুযোগ দেওয়া হবে।”

তিনি আরও জানান, অবশিষ্ট হকারদের জন্য পর্যায়ক্রমে হলিডে মার্কেট ও নাইট মার্কেট চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। এর মাধ্যমে একদিকে হকারদের কর্মসংস্থানের সুযোগ বজায় থাকবে, অন্যদিকে নগরীর যান চলাচল ও পথচারীদের স্বাভাবিক চলাচলও নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
নীতিমালা অনুযায়ী, হকারদের এককালীন নিবন্ধন ফি ৫ হাজার টাকা, বার্ষিক নবায়ন ফি ২ হাজার ৫০০ টাকা এবং স্থান ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বাবদ মাসিক ৩ হাজার টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
নীতিমালায় নিবন্ধিত হকারদের বারকোড বা কিউআর কোডযুক্ত ডিজিটাল পরিচয়পত্র দেওয়ার বিধান রাখা হয়েছে। নিবন্ধনের জন্য আবেদনকারীর বয়স কমপক্ষে ১৮ বছর এবং বাংলাদেশের নাগরিক হওয়া বাধ্যতামূলক।
এ ছাড়া শুক্রবার, শনিবার ও সরকারি ছুটির দিনে সকাল ৭টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত নির্ধারিত স্থানে হলিডে মার্কেট পরিচালনার সুযোগ রাখা হয়েছে। বাণিজ্যিক এলাকায় অফিস সময় শেষে সন্ধ্যা ৬টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত চালু করা যাবে নাইট মার্কেট। তবে মাঠ, উপাসনালয় বা কবরস্থানে কোনো মার্কেট বসানো যাবে না।

নীতিমালায় নারী ও প্রতিবন্ধী হকারদের জন্য স্থান বরাদ্দের ক্ষেত্রে ৩০ শতাংশ জায়গা সংরক্ষণের বিধান রাখা হয়েছে। পথচারীবান্ধব ফুটপাত নিশ্চিত করতে কমপক্ষে ১ দশমিক ৫ মিটার বা প্রায় ৫ ফুট জায়গা সবসময় উন্মুক্ত রাখার বাধ্যবাধকতা রয়েছে। ফুটপাতে কোনো স্থায়ী অবকাঠামো নির্মাণও করা যাবে না।
বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ক্ষেত্রেও হকারদের নিজ নিজ ব্যবসাস্থল পরিষ্কার রাখা এবং নির্ধারিত বিনে বর্জ্য ফেলার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা কিংবা নির্ধারিত সীমানা লঙ্ঘন করলে উচ্ছেদের পাশাপাশি নিবন্ধন বাতিলের বিধান রয়েছে।
সভায় বক্তারা বলেন, হকারদের জীবিকা ও নগরবাসীর চলাচলের অধিকার—দুটিই সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি কার্যকর ও টেকসই হকার ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে। এজন্য নীতিমালার যথাযথ বাস্তবায়ন এবং সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের সহযোগিতা প্রয়োজন।
সভায় ডিএসসিসি ও ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিভিন্ন হকার সংগঠনের প্রতিনিধি এবং গণমাধ্যমকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।