ঢামেকের নতুন ভবনে ইয়াবার আসর, বরখাস্ত কর্মচারীসহ গ্রেপ্তার ৪
কে এস ইসলাম :
দেশের সর্ববৃহৎ সরকারি হাসপাতাল ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের নতুন ভবনে ইয়াবা বিক্রি ও সেবনের অভিযোগে বরখাস্ত এক কর্মচারীসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
রোগী ভর্তি রেখে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালিত ভবনের একটি বন্ধ জরুরি সিঁড়িকে কেন্দ্র করে দীর্ঘদিন ধরে মাদক কারবার ও সেবন চলছিল বলে প্রাথমিক তদন্তে জানা গেছে।গ্রেপ্তার কৃতরা হলেন, ঢামেক হাসপাতালের বরখাস্ত চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী ইয়ার হোসেন, তার সহযোগী আলমগীর, সবুজ ও বিল্লাল। তাদের কাছ থেকে ৭০ পিস ইয়াবা উদ্ধার করা হয়েছে।
হাসপাতালের নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা আনসার সদস্যরা বুধবার (১০ জুন)সন্ধ্যায় গোপন সংবাদে মাধ্যমে নতুন ভবনের তৃতীয় তলার একটি বন্ধ জরুরি বহির্গমন সিঁড়িতে অভিযান চালিয়ে ইয়াবাসহ চারজনকে হাতেনাতে আটক করা হয়। পরে তাদের শাহবাগ থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
শাহবাগ থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) তারক কুমার হালদার জানান, আটক চারজনের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে,তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে হাসপাতালের নতুন ভবন ও আশপাশের এলাকায় অবস্থান নিয়ে মাদক বিক্রি ও সেবনের সঙ্গে জড়িত ছিলেন।
ঢামেক হাসপাতালের প্রধান প্লাটুন কমান্ডার (পিসি)মো: আহাদ আলী জানান, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে তাদের কাছ থেকে ইয়াবা উদ্ধার করি। পরে পুলিশ ও হাসপাতাল কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানানো হয়।
হাসপাতালের নিরাপত্তার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ ক্যাম্পের ইনচার্জ ইন্সপেক্টর মো:ফারুক জানান, নতুন ভবনে মাদক বিক্রি ও সেবনের বিষয়টি আগে তাদের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। পরে ঘটনাটি সম্পর্কে অবগত হয়েছেন।
ঘটনার পর হাসপাতালজুড়ে উদ্বেগ সৃষ্টি হয়েছে।
হাসপাতালের চতুর্থ শ্রেণির কর্মচারী সমিতির সভাপতি মো:আজিম জানান,চিকিৎসা প্রতিষ্ঠানে ভেতরে মাদক সেবন ও বিক্রির ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক এবং কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। গ্রেপ্তার হওয়া ইয়ার হোসেনকে তার আগের অবৈধ কর্মকাণ্ডের কারণে অনেক আগেই চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল।
তিনি আরো জানান,ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনা রোধে হাসপাতাল এলাকায় নজরদারি আরও জোরদার করা হবে। হাসপাতালের বিভিন্ন স্থানে সন্দেহভাজন ব্যক্তি বা কোনো অসাধু চক্র সক্রিয় রয়েছে কি না, তা পর্যবেক্ষণে কর্মচারীদের পক্ষ থেকেও বিশেষ মনিটরিং ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তাভাবনা চলছে।
হাসপাতালের একাধিক কর্মকর্তা জানান,রোগী ভর্তি ভবনের ভেতরে মাদক কারবারের ঘটনা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। চিকিৎসা ও সেবাকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত একটি প্রতিষ্ঠানের অভ্যন্তরে এমন কর্মকাণ্ড নিরাপত্তা ব্যবস্থার কার্যকারিতা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
শাহবাগ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি)মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান জানান, গ্রেপ্তার হওয়া ইয়ার হোসেনের বিরুদ্ধে আগেও একাধিক মামলা রয়েছে। পুরো ঘটনা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে এবং এর সঙ্গে অন্য কেউ জড়িত রয়েছে কি না, তাও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ জানান ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালকে মাদকমুক্ত রাখতে নিরাপত্তা ও নজরদারি কার্যক্রম আরও জোরদার করা হবে।