চিকিৎসকদের উপর হামলার প্রতিবাদে ঢামেকে মানববন্ধন তিন দফা দাবি।
কে এস ইসলাম :
সারাদেশে চিকিৎসকদের ওপর ধারাবাহিক হামলা,লাঞ্ছনা ও নিপীড়নের প্রতিবাদে ঢাকা মেডিকেল কলেজ(ঢামেক)হাসপাতালে মানববন্ধন ও প্রেস কনফারেন্স করেছে বিসিএস (স্বাস্থ্য) ক্যাডার বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক ফোরাম।
শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এই প্রতিবাদী কর্মসূচির আয়োজন করা হয়।কর্মসূচি থেকে চিকিৎসকদের কর্মকালীন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ৩ দফা দাবি উত্থাপন করা হয়।
দাবিগুলো হচ্ছে,# চিকিৎসকদের ওপর সংঘটিত প্রতিটি হামলা ও নিপীড়নের ঘটনায় অবিলম্বে অপরাধীদের চিহ্নিত করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সার্বিক নিরাপত্তায় একটি কার্যকর ও বাধ্যতামূলক 'জাতীয় সুরক্ষা নীতিমালা' প্রণয়ন করতে হবে।
দেশের সরকারি-বেসরকারি সকল হাসপাতালকে চিকিৎসকদের জন্য শতভাগ নিরাপদ কর্মস্থলে রূপান্তর করতে হবে।
প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক অধ্যাপক ডা. রফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের যেকোনো প্রাকৃতিক বা জাতীয় দুর্যোগে চিকিৎসকরাই জীবন বাজি রেখে জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছেন। অথচ সেই চিকিৎসকদেরই বারবার অনাকাঙ্ক্ষিত হামলার শিকার হতে হচ্ছে।বিগত সরকারের আমলে হাসপাতালগুলোতে যে হরিলুট ও দুর্নীতি হয়েছে, তার কারণেই আজ চিকিৎসাসামগ্রীর চরম সংকট। এর মাশুল দিতে গিয়ে চিকিৎসা সেবা ব্যাহত হচ্ছে। একটি বিশেষ মহল চক্রান্ত করে চিকিৎসকদের ওপর এসব পরিকল্পিত হামলা চালাচ্ছে।"
ড্যাবের কেন্দ্রীয় মহাসচিব অধ্যাপক ডা. মো. জহিরুল ইসলাম শাকিল বলেন, "বর্তমান সরকার একটি জনবান্ধব সরকার। কিন্তু এই সরকারকে বিব্রত করতে এবং দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংস করে অন্য দেশের হাতে তুলে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হিসেবে একটি গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে এসব ঘটনা ঘটাচ্ছে। কোনো চিকিৎসকই চান না রোগীর ক্ষতি হোক,তারা সাধ্যের সর্বোচ্চটা দিয়ে সেবা দেন।
স্বাস্থ্য উপদেষ্টার দৃষ্টি আকর্ষণ করে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, "অভিভাবক হিসেবে আপনাদের অবিলম্বে কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে। এরপর আর কোনো চিকিৎসকের ওপর আঘাত আসলে আমরা আর হাত গুটিয়ে বসে থাকব না।"
কর্মসূচিতে উপস্থিত অন্যান্য চিকিৎসক নেতারা চরম ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,রাস্তায় বা কর্মস্থলে আমাদের কোনো নিরাপত্তা নেই। আজ একজনের ওপর হামলা হচ্ছে, কাল অন্যজন শিকার হবেন। অবিলম্বে এই নৈরাজ্য বন্ধ করে চিকিৎসকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা না হলে কঠোর কর্মসূচিতে যেতে বাধ্য হবো।প্রতিবাদ সমাবেশ ও মানববন্ধনে বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের বিভিন্ন স্তরের শতাধিক চিকিৎসক ও সংগঠনের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।