সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে স্ত্রী হত্যার আসামিকে সাভার থেকে গ্রেফতার করেছে র্যাব-৩ ও র্যাব-৪
র্যাব-৩ এর গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে র্যাব-৪ এর একটি যৌথ আভিযানিক দল ১৬ মে ২০২৬ তারিখ ১১৫০ ঘটিকার সময় ঢাকা জেলার সাভার থানাধীন পলাশবাড়ী ছাপড়া মসজিদ বেলতলা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানাধীন এলাকায় পারিবারিক কলহের জের ধরে স্ত্রীকে হত্যা মামলার চাঞ্চল্যকর ঘটনার প্রধান আসামীকে গ্রেফতার করে।
মামলার এজাহার ও প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায় যে, নিহত মোছাঃ তাসলিমা খাতুন (৩২) সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার বৃ-আঙ্গারু পূর্বপাড়া এলাকার মোঃ তাহের আলী মন্ডলের মেয়ে| ভিকটিম তাসলিমা খাতুন ও উজ্জল প্রামাণিক এর ১২/১৩ বছর পূর্বে ইসলামী শরীয়াহ মোতাবেক পারিবারিকভাবে বিবাহ সম্পন্ন হয়| বিবাহের পর স্বামী-স্ত্রী হিসেবে ঘর সংসার করাকালে ধৃত আসামি উজ্জল প্রামাণিক এর ঔরষে দুইটি পুত্র সন্তানের জন্ম হয়| বিবাহের পর থেকেই তাদের সংসারে পারিবারিক বিষয় নিয়ে বিভিন্ন সময় তাদের মাঝে ঝগড়া বিবাদ লেগেই থাকতো| ধৃত আসামির মা রহিমা খাতুন এবং বোন মনিজা খাতুন মিলে নিজ বাড়িতে অনৈতিক কাজকর্ম করায় স্থানীয়ভাবে এলাকাবাসি একাধিকবার দরবার সালিশ ও জরিমানার মাধ্যমে শর্তক করা হয়| ভিকটিম তাসলিমা খাতুন তাদের অনৈতিক কাজকর্মে প্রতিবাদ করায় ধৃত আসামি উজ্জল প্রামাণিকসহ তার পরিবারের লোকজন মিলে ভিকটিম তাসলিমা খাতুনকে যোগসাজসে বিভিন্ন ধরণের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করে| বিষয়টি ভিকটিম তাসলিমা খাতুন তার পিতা তাহের আলী মন্ডলকে জানাইলে পারিবারিক ভাবে একাধিক বার মিমাংসা করা হয়| ভিকটিম তাসলিামা খাতুন সন্তানদের কথা চিন্তা করে ধৃত আসামি উজ্জল প্রামাণিক এর সহিত সংসার চালিয়ে যায়| পরবর্তীতে গত ১৩ মে ২০২৬ তারিখ আনুমানিক ০৬০০ ঘটিকার সময় তাহের আলী মন্ডলের মামা ধৃত আসামির বাড়ির পাশেই ডিস লাইন মেরামত করার সময় জানতে পারে নিহত তাসলিমা খাতুন তার স্বামীর পূর্ব দূয়ারী দোচালা টিনের শয়ন ঘরের আড়াঁর (দরনার) সাথে ওড়না দিয়ে ফাঁস লাগানো মৃত অবস্থায় রয়েছে| বিষয়টি তার পরিবার জানতে পেরে তাৎক্ষনিক ধৃত আসামির বাড়িতে যেয়ে ভিকটিম তাসলিমার ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পায়| ভিকটিমের স্বামী, শ্বশুর ও শাশুড়ি তাকে নির্যাতন করে ঐদিন রাতে শ্বাসরোধে হত্যার পর লাশ ঘরের আঁড়ার (দরনার) সঙ্গে ঝুলিয়ে রেখে ধৃত উজ্জল ও তার পরিবারের সবাই বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে যায়| ভিকটিমের মৃত্যুর পর ধৃত উজ্জল প্রামাণিক ও তার পরিবারের সকলে মোবাইল ফোন বন্ধ রেখে নিজেদের আত্মগোপন করে রাখেন| নিহতের পিতা তাহের আলী মন্ডল অভিযোগ করেন বিয়ের পর থেকেই স্বামী উজ্জল প্রামাণিক নিহত তাসলিমার ওপর শারীরিক নির্যাতন করতেন| উক্ত ঘটনায় সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর থানায় একটি হত্যা মামলা রুজু করা হলে র্যাব-৩ ও র্যাব-৪ এর যৌথ আভিযানিক দল কর্তৃক ধৃত উজ্জল প্রামাণিক’কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়| উল্লেখ্য যে, বাকি আসামিদের গ্রেফতারের কার্যক্রম প্রক্রিয়াধীন রয়েছে|
ধৃত আসামির বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে|