খিলগাঁওয়ে গণধোলাইয়ের শিকার ঠিকাদার, অস্ত্র ও চাকু উদ্ধারের দাবি; পাল্টা ‘সাজানো ঘটনা’ অভিযোগ স্ত্রীর
কে এস ইসলাম :
রাজধানীর খিলগাঁওয়ের নন্দীপাড়া এলাকায় সোহেল ওরফে পাগলা সোহেল (৪৫) নামে এক ইট-বালু সরবরাহকারী ঠিকাদারকে গণধোলাইয়ের পর পুলিশ উদ্ধার করেছে। এ সময় তার কাছ থেকে একটি দেশীয় পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি ও একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। তবে সোহেলের পরিবারের দাবি, ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে পরিকল্পিতভাবে তাকে মারধর করা হয়েছে এবং পরে তার বিরুদ্ধে অস্ত্র উদ্ধারের ঘটনা সাজানো হয়েছে।
খিলগাঁও থানার সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) মো. ইমরান শেখ জানান, নন্দীপাড়ার পানের পাম্পের সামনে আগ্নেয়াস্ত্রসহ এক ব্যক্তিকে স্থানীয় জনতা আটকে রেখেছে—এমন সংবাদের ভিত্তিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। সেখানে গিয়ে দেখা যায়, প্রায় ৪০ থেকে ৫০ জন লোক তাকে ঘিরে রেখেছে এবং তিনি রক্তাক্ত অবস্থায় মাটিতে পড়ে আছেন।
পুলিশ জানায়, স্থানীয়দের দাবি অনুযায়ী সোহেলের কাছ থেকে একটি দেশীয় পিস্তল, ম্যাগাজিন, তিন রাউন্ড গুলি এবং একটি সুইচ গিয়ার চাকু উদ্ধার করা হয়। সেগুলো আলামত হিসেবে জব্দ করা হয়েছে। পরে তাকে উদ্ধার করে প্রথমে মুগদা জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। চিকিৎসা শেষে বিকেলে তাকে পুনরায় পুলিশের হেফাজতে নেওয়া হয়।
অন্যদিকে, সোহেলের স্ত্রী তারিন অভিযোগ করেন, ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে ‘মব’ তৈরি করে তার স্বামীকে হত্যার চেষ্টা করা হয়েছে। তিনি বলেন, সোহেল একজন ইট-বালু সরবরাহকারী ঠিকাদার এবং দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় খোকন, কাওসার, মাসুম ও তাদের বাবার সঙ্গে তার ব্যবসায়িক বিরোধ চলছিল। এর আগেও প্রতিপক্ষের পক্ষ থেকে তাকে একাধিকবার হুমকি দেওয়া হয়েছিল।
তারিনের দাবি, পরিকল্পিতভাবে ডেকে এনে সোহেলকে বেধড়ক মারধর করা হয়। পরে তার কাছে অস্ত্র রেখে পুলিশে সোপর্দ করা হয়েছে। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং প্রকৃত ঘটনার উদ্ঘাটনের দাবি জানান।
সোহেল খিলগাঁওয়ের পশ্চিম নন্দীপাড়ার বাসিন্দা। তার বাবার নাম আব্দুল আজিজ।
এ ঘটনায় খিলগাঁও থানায় আইনগত প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। পুলিশ জানিয়েছে, উদ্ধার হওয়া অস্ত্র ও অন্যান্য আলামত পরীক্ষা করে ঘটনার প্রকৃত সত্য উদ্ঘাটনে তদন্ত অব্যাহত আছে।